ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা: দুর্নীতির অভিযোগে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক!
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৬-০৪-২০২৬ ১১:৩২:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৪-২০২৬ ১১:৩২:৫১ অপরাহ্ন
হারুন অর রশিদ শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক!
ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ (রানা)-এর বিরুদ্ধে আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শতকোটি টাকার সম্পদের পাহাড়, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বেতনের তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীর বিপুল সম্পদ দেখে বিস্মিত সহকর্মী থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ মানুষ।
📌 প্রধান অভিযোগসমূহ (ধারাবাহিকভাবে):
১. আন্ডার বিলিং ও মিটার টেম্পারিং
হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—গ্রাহকদের পানি বিল কম দেখিয়ে এবং মিটার কারসাজির মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন, যা সরাসরি সরকারের রাজস্ব ক্ষতিতে ভূমিকা রেখেছে।
২. অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতা
অবৈধ সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
৩. জ্ঞাত আয় বহির্ভূত শতকোটি টাকার সম্পদ
অভিযোগ অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি, যা তার চাকরির বেতন কাঠামোর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় তার নামে বা বেনামে রয়েছে অন্তত ৪টি বাড়ি:
টিক্কাপাড়া (৭/এ/১৫) – ১টি বাড়ি
ঢাকা উদ্যান, ৩নং রোড – ৪ তলা ভবন
নূরজাহান রোড – ২ তলা বাড়ি
চান মিয়া হাউজিং – ১টি বাড়ি
৫. বিভিন্ন জেলায় বিপুল সম্পত্তি
গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে:
একাধিক টিনশেড ও পাকা বাড়ি
কয়েক একর জমি
মুরগির খামার
বাজার এলাকায় দোকানপাট (অবৈধ দখলের অভিযোগসহ)
৬. গ্রামের বাড়িতে প্রাসাদ ও জমির সাম্রাজ্য
ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার মাখল গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল কৃষিজমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে।
৭. সম্পদ বেনামে ক্রয়
নিজ নামে না করে স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের নামে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে, যাতে তদন্ত এড়ানো যায়।
৮. প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
অভিযোগ রয়েছে—গ্রামের অসহায় মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের জমি দখল করেছেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন।
৯. মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি
তার বিরুদ্ধে কথা বললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
১০. বহিরাগত দিয়ে দায়িত্ব পালন (ডুপলি নিয়োগ)
নিজে দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগকৃত লোক দিয়ে কাজ করানো—যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
১১. বিলাসী জীবনযাপন
একাধিক গাড়ির মালিক
শত ভরি স্বর্ণের মালিকানা (পরিবারসহ)
ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে কোটি টাকার আমানত
📌 দুদকের দায়মুক্তি নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুই দফায় (২০১৬ ও ২০২০ সালে) হারুনকে দায়মুক্তি দেয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়াসার কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি—একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বিপুল সম্পদ কীভাবে বৈধ হয়, তা নতুন করে তদন্ত করা প্রয়োজন।
📌 নতুন করে তদন্তের দাবি
সম্প্রতি আবারও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্রামবাসী ও সহকর্মীদের দাবি—
➡️ হারুন অর রশিদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে পুনরায় তদন্ত করা হোক
➡️ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হোক
➡️ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক
উপসংহার
ঢাকা ওয়াসার একজন সাধারণ মিটার রিডার থেকে রাজস্ব পরিদর্শক হয়ে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া—এই উত্থানকে অনেকেই “আলাদীনের চেরাগ”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে।
প্রথম পর্ব চলমান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স